খেজুর খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
সারা দিন রোজা রাখার পর খেজুর খেলে শরীর দ্রুত সতেজ ও সবল
হয়ে ওঠে কি?
ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় তাৎপর্য
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর সময় থেকেই খেজুর দিয়ে
ইফতারের চল। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে খেজুর ও পানি খেয়ে ইফতার করতেন।
মিষ্টান্ন, ফল, বিশেষত খেজুর খেয়ে ইফতার করা সুন্নত; যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে
যেকোনো হালাল খাবার খেয়ে, এমনকি শুধু পানি দিয়েও ইফতার করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.)
বলেন, ‘তোমাদের কেউ রোজা রাখলে খেজুর দিয়ে যেন ইফতার করে, খেজুর না হলে পানি দিয়ে;
নিশ্চয়ই পানি পবিত্র।’ (সূত্র: তিরমিজি ও আবু দাউদ; আলফিয়্যাতুল হাদিস: ৫৬২,
পৃষ্ঠা: ১৩১-১৩২)
১. খেজুর রক্তনালির জন্য ভালো। খেজুর খেলে ধমনি পরিষ্কার থাকে। রক্ত চলাচলে কোনো বাধার সৃষ্টি হয় না। ফলে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।
২. গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণ খেজুর খেলে যকৃৎ ভালো থাকে ও শক্তিশালী হয়।
৩. খেজুরে প্রচুর পটাশিয়াম রয়েছে, যা হৃদ্রোগ প্রতিরোধ করে এবং এলডিএল কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমায়।
৪. খেজুরে রয়েছে ভিটামিন এ, যা চোখের জন্য খুব ভালো। ভিটামিন এ চোখের কর্নিয়াকে সতেজ করে। খেজুরে লুটেনিন ও জেক্সানথিনও রয়েছে। এগুলো চোখকে সুরক্ষিত রাখে।
৫. ইফতার ছাড়াও বছরের বাকি সময় নাশতার একটি ভালো পদ হতে পারে
খেজুর। খেজুরে চিনি আছে, যা শরীরকে শক্তি দেয়। নাশতা হিসেবে বাদামের সঙ্গে খেজুর
খেলে আরও বেশি শক্তি পাওয়া যায়। কারণ, বাদামে থাকা ফ্যাট খেজুরের শক্তিকে আরও
বাড়িয়ে দেয়। যে কারণে খেলোয়াড়দের খাদ্য তালিকায় এ–জাতীয় খাবার থাকে।
৬. খেজুর বদহজম রোধ করে। কোষ্ঠকাঠিন্য ও বুকের জ্বালাপোড়া
উপশম করে। খেজুরে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড ও ফাইবার খাবার হজমে সাহায্য করে।
৭. খেজুরে ম্যাগনেশিয়াম আছে, যা ফোলা ও ব্যথা সারিয়ে আরাম
দেয়। এ ছাড়া খেজুরের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল প্রভাব রয়েছে। ফলে সংক্রমণ হওয়ার আশংকা
কমে যায়।
৮.খেজুর ফ্রুকটোজের (ফলে থাকা একধরনের প্রাকৃতিক চিনি) একটি
উৎস। এ উপাদানের কারণে খেজুর খুবই মিষ্টি। খেজুরে অনেকগুলো পুষ্টি উপাদান, ফাইবার
ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি কোনো রেসিপিতে সাদা চিনির দারুণ বিকল্প হতে পারে।
৯. রক্তাস্বল্পতার ওষুধ হিসেবে কাজ করে খেজুর। খেজুরে রয়েছে
প্রচুর আয়রন। খেজুর দেহের আয়রনের অভাব পূরণ করে রক্তস্বল্পতার মতো রোগ থেকে রক্ষা
করে।
১০. নিয়মিত খেজুর খাওয়ার অভ্যাস ত্বককে শুষ্কতা থেকে রক্ষা
করে। ত্বকের নানা সমস্যা থেকেও মুক্তি দেয় খেজুর। ত্বকের বলিরেখা নিয়ন্ত্রণ করতেও
খেজুর উপকারী।
সতর্কতা
· খেজুর যেমন শরীর পক্ষে উপকারী তেমন মনে রাখতে হবে যাদের
ডায়াবেটিস আছে তারা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাবেন না। কারণ খেজুরে গ্লুকোজ আছে এবং
সেটি খেতে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।
· এছাড়াও খেজুরে আছে পটাশিয়াম, যাদের শরীরে পটাশিয়াম বেশি
তারা নিয়মিত খেজুর খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। ডাক্তার পরামর্শ নিয়ে কাজ করুন।
· খেজুরের মতো শুকনো ফলে ছাঁচ থাকে তাই যাদের হাঁপানি আছে
তাদের এড়িয়ে চলা।
তবে যা হোক, খেজুর একটি প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর ফল যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। যা শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় খেজুর অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তবে ক্ষেত্রবিশেষে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে করা উচিত। খেজুর খেলে শরীর সুস্থ থাকে এবং আমরা আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে আরও সক্রিয় হতে পারি। খেজুর খাওয়ার মাধ্যমে আমরা আমাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারি।
0 Comments