গুলিতে গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা, ‘পল্লবীর আতঙ্ক' আল ইসলাম গ্রেপ্তার'

 

গ্রেপ্তার হলেন মো. মমিন (৩৫)

রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়াবাঁধ বস্তিতে গুলিতে আয়েশা আক্তার নামের এক গৃহবধূকে হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত তিন দিনে ঢাকা ও গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. মমিন (৩৫), আল ইসলাম (২৫) ও নাসিরউদ্দিন ২৮। 

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন—  শাবু (২৮), সম্রাট (২৩), শামিম (৪৫), জয়নাল (৩২), পাতা সোহেল, কালা মোতালেব (৪০), ভাগ্নে মামুন (৩৮), জাহাঙ্গীর (৩৩), ভেজাল মামুন (৪২), ইউনুস ওরফে ডিস্কু (৪০), রুবেল (৩৮), মজনু (৫০), কালন (৩৫), কামাল (৩৫) ও জয় (২৭)।

পুলিশের ভাষ্যমতে, মমিন একটি চাঁদাবাজ দলের প্রধান। ওই দিন তাঁর দলের লোকের গুলিতেই আয়েশা আক্তারের মৃত্যু হয়।

গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে র‍্যাব-১ ও র‍্যাব-৪–এর যৌথ দল গাজীপুরের গাছা থানার উত্তরপাড়ায় অভিযান চালিয়ে মোমিনকে গ্রেপ্তার। এর আগে গত বুধবার রাতে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে আল ইসলাম ও নাসিরকে গ্রেপ্তার করে।

বিজ্ঞাপন


গত বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে পল্লবীর বাউনিয়াবাঁধ বস্তিতে ২০-৩০ জন যুবক মিলে ধারালো অস্ত্রের মুখে মামুন নামের এক ব্যক্তিকে জিম্মি করে মারধর করছিলেন। হামলাকারীদের মধ্যে দু-তিনজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র এবং কয়েকজনের হাতে চাপাতিসহ ধারালো অস্ত্র ছিল। এ সময় কয়েকজন নারী ও স্থানীয় লোকজন এসে মারধরের শিকার মামুনকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা গুলি ছোড়ে। সেই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গৃহবধূ আয়েশার শরীরে লাগে। এতে তিনি ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান।

গত বুধবার রাতে আয়েশা আক্তারের স্বামী মেরাজুল ইসলাম ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জন জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার আল ইসলাম ও নাসিরকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। আর র‍্যাবের হাতে আটক প্রধান আসামি মমিনের গুলিতে সেদিন গৃহবধূ আয়েশা আক্তার নিহত হন। আজ শনিবার তাঁকে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।


বিজ্ঞাপন

গ্রেপ্তার আল ইসলাম (ফাইল ফটো)


রাজধানীর পল্লবীতে চাঁদাবাজি, মাদক কারবার আর দখল মানেই আল ইসলাম। নিরীহ কারো জমি কেনার তথ্য পেলেই হাজির হতো আল ইসলাম ও তার ভাই জাহাঙ্গীরের লোকজন। নগদ চাঁদাবাজিতে সিদ্ধহস্ত দুই ভাই চাঁদা না পেলে হামলা করতেন, কখনো সাঙ্গোপাঙ্গর মাধ্যমে মিথ্যা মামলা দিয়ে করতেন দিনের পর দিন হয়রানি। বাধ্য হয়ে অনেকে জমি ছেড়ে যেতে বাধ্য হতেন।

মাদক কারবারে জড়িত আল ইসলামের বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যা, হামলা, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগে অন্তত ডজনখানেক মামলা। ৫ আগস্টের পর রাতারাতি ভোল পাল্টে পল্লবীর আতঙ্কের নাম হয়েছেন দুই সহোদর।

সর্বশেষ রাজধানীর পল্লবী থানাধীন বাউনিয়াবাদ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলিতে গৃহবধূ আয়শা নিহত হয়। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সংঘটিত ওই গোলাগুলির ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকেই নেতৃত্ব দেন আল ইসলাম।

Post a Comment

0 Comments